পোস্টকার্ড ব্লগের “ লোকায়ত কথোপকথন ” পাতাটি সবার জন্য উন্মুক্ত । লিখতে চাইলে আমাদের মেইল করে জানান । সাগ্রাহে আমরা আমান্ত্রন জানাবো। আমাদের মেইল ঠিকানা postcarduv@gmail.com। বাছাইকৃত লেখাটি পোস্ট কার্ড সংখ্যায় প্রকাশ করা হবে।

শুক্রবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৩

সানি লিওন আতঙ্ক ও আমাদের ভোগবাদ

সাম্প্রতিক ঈদের আগে আমাদের দেশে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল সানি লিওন। সানি লিওন হচ্ছে কানাডার সাবেক পর্ণো চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী বছর খানেক আগেই যার বলিউডে অভিষেক হয়েছে। তবে আমাদের আলোচিত সানি লিওন কিন্তু ব্যক্তি সানি লিওন নয়। ঈদের আগে বাংলাদেশে তার নামে একটি পোষাক এসেছিল ভারত থেকে, যা পুরো বাঙ্গালী মধ্যবিত্ত সমাজের ভিতকে একটা জোড়েসোরে ঝাকুনি দিয়েছে।




কি ছিল সেই পোষাকে যাতে তা নিয়ে পুরো দেশে তোলপাড় শুরু হয়ে গেল। ঝড় উঠলো সোস্যাল মিডিয়াতে। এমন কি এই পোষাক নিয়ে অনেক ধরনের মজার মজার কৌতুকও চালু হয়েছে। যেমন দোকানদার তার বন্ধুকে বলছে জানিস আজ একজন সানি লিওনের ড্রেস কিনতে এসেছিল, আমি তাকে একটা খালি প্যাকেট ধরিয়ে দিয়েছি, হা হা হা।


না এই পোষাক নিয়ে সোস্যাল মিডিয়াতে যে ধরনের হাসি তামাশা বা কৌতুক হয়েছে বাস্তবে পোষাকটি অতোটা অশ্লীল ছিল না। সমস্যাটি পোষাকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা দাম নিয়ে নয়। সমস্যা হচ্ছে পোষাকটি এমন এক সেলিব্রেটির যার পেশাকে আমরা আমাদের ভদ্র সমাজে স্বীকৃতি না দিলেও আমাদের সমাজ তাকে টিকিয়ে রেখেছে যুগের পর যুগ ধরে।
 
সানি লিওন পর্ণোগ্রাফীর অভিনেত্রী বা সোজা বাংলায় সে দেহজীবি। তবে এই দেহজীবি আর সংসদ ভবনের সামনে সস্তা প্রসাধনী মেখে খদ্দেরের অপেক্ষায় দাড়িয়ে থাকা দেহজীবি এক জিনিস নয়। এ খোদ কানাডা থেকে আমদানি করা আধুনিক এক ব্রান্ডেড পণ্য যার শিল্পকর্ম দেখতে সহজ সরল ভেতো বাঙ্গালীরাও হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

আর তাই বাংলাদেশে যখন সানি লিওনের প্রথম বলিউড ফিল্ম   জিসম-টু পাইরেটেড হয়ে চলে আসে তখন সেটা নিয়ে সমালোচনার বদলে চলতে থাকে হট কেক বা গরম পিঠের মত কাড়াকাড়ি। অনুসন্ধিৎসু বাঙ্গালীর মন তখন জানতে চায় সানি লিওনের ন্দি সিনেমায় অভিনয় করা কি পিএইচডি করার পর এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া না এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সমতুল্য।



তাহলে প্রশ্ন দাড়াচ্ছে সানি লিওনের নামের পোষাক নিয়ে বাঙ্গালীর মনে এত আতঙ্ক কেনো। আসলে সে অতঙ্কের মূল কারন হচ্ছে আমাদের পুরোনো জং ধরা পুরুষতান্ত্রিক ভোগবাদী মন। যতক্ষন সানি লিওন আমাদের মনোরঞ্জন করছে বা ম্যাড়মেড়ে জীবনে একটু ঝাকি দিচ্ছে ততক্ষন সব ঠিক আছে। আমাদের ভোগবাদী মন আতঙ্কগ্রস্থ হয় তখনই যখন সানি লিওন আমাদের ভোগের চৌহদ্দি পেরিয়ে ব্যক্তি জীবনে ঢুকে পড়ে।

আমাদের স্ত্রী বা বোনকে সানি লিওনের পোষাকে (তার দৈর্ঘ্য যতই হোক নামতো সানি লিওন) কল্পনা করে আমাদের পুরুষতান্ত্রিক মনে আতঙ্কের শীতল স্রোত বয়ে যায়। আমাদের মনে পড়ে যায় সানি লিওনকে ঘিরে পুরুষদের অবদমিত ভোগবাদী চিন্তাগুলো, যা হয়তো অন্য কেউ আমার বোন বা মেয়েকে নিয়ে ভাবতে পারে। তাই আমাদের ভীতু মন তখন সানি লিওনের ফ্যান্টাসিকে ভুলে তাকে উচ্ছেদ করতে প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠে। আমরা একবারও ভেবে দেখি না এভাবে সানি লিওনকে তাড়ানো গেলেও তার ভূত কিন্তু ঠিকই রয়ে যাবে আমাদের ঘাড়ে চেপে।



তাহলে আমাদের কি করা উচিত। ভিনদেশ থেকে এভাবে সানি লিওন, ক্যাটরিনা, কারিনা নামক বিভিন্ন উচ্চ শ্রেনীর দেহজীবিদের নামে আমাদের দেশে বিভিন্ন পোষাক আমদানি হবে, তা নিয়ে সারাদেশে কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যাবে, আর আমরা শুধু বসে বসে দেখবো। না এটাও কোনো সমাধান নয়। এর প্রতিবাদ অবশ্যই করতে হবে। তবে প্রতিবাদের আগে প্রতিবাদের উদ্দেশ্যটা আগে ভালোভাবে বুঝতে হবে। আমাদের প্রতিবাদের উদ্দেশ্য কি শুধুই সানি লিওন নামক ব্যক্তি বিশেষের বা তা বিশেষ পোষাকের বিরুদ্ধে। নাকি এই ধরনের সানি লিওন, ক্যাটরিনা, কারিনা ও দিপীকাদের নিয়ে গড়ে উঠা একধরনের ভোগবাদী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, যা নারীকে মানুষের পর্যায়ে না রেখে নামিয়ে আনে দোকানের দামী পন্যের তালিকায়।



যদি এই ভোগবাদী সংস্কৃতির বিপক্ষেই আমাদের প্রতিবাদ হয় তাহলে আমাদের বলতে হবে আমরা এই পুরো সংস্কৃতিরই অবসান চাই যা আমাদের মা, বোন, কন্যাদের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে। এই সংস্কৃতিটি এতোই ভয়াবহ যে তা আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয় আধুনিক মেয়ে মানেই দৈহিকভাবে আকর্ষনীয় হতে হবে। অর্থ্যাৎ তাকে শুধু সুন্দর হলেই হবে না তাকে আবেদনময়ী হতে হবে। আর যার প্রশিক্ষনের জন্য দেশব্যাপী তথা পুরো বিশ্বব্যাপী চলছে সৌন্দর্য প্রতিযোগীতার নামে রমরমা স্বীকৃত যৌন ব্যবসা। যেখানে প্রধান পন্য হচ্ছে নারী। সেখানে বিচার হয় কে নিজেকে কতটা আকর্ষনীয় ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে অর্থ্যাৎ নিজেকে কে সুন্দর পন্য হিসেবে জাহির করতে পারে। আর যারা নিজেকে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে তাদের জন্য আছে বিচারকের বিভিন্ন যৌন সুরসুরি যু্ক্ত প্রশংসামূলক বাক্য।

এই সংস্কৃতির প্রভাব যে শুধু অভিনয় বা বিজ্ঞাপন জগতে আছে তা কিন্তু নয়। এই ভোগের ডামাডোলে পড়ে এখন গানও শোনার বস্তু থেকে দেখার বস্তু হয়ে গেছে। তাই স্যাটেলাইটের বদৌলতে এখন বাঙ্গালী গানের মাধ্যমে জানতে পারে ‘চামেলী কত চিকনি’ বা ‘শিলার যৌবন’ কতটা উদ্দীপক। ‘মুন্নীর কেনো বদনাম’ হলো তা নিয়েও আমাদের মাথা ব্যাথা কম নয়। তো এভাবে একদিকে ‘উ লা লা উ লা লা’ সংস্কৃতি চালু করে রেখে অপরদিকে কোনো ভাবেই সানি লিওনদের আগমনকে ঠেকানো যাবে না। কোনো না কোনো রুপে তা আমাদের সমাজে প্রবেশ করবেই। আর তার আঘাত বিষাক্ত সাপের ছোবলের চেয়ে কোনো অংশে কম হবে না। সে লক্ষন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যেখান থেকে এইসব অপসংস্কৃতি আমাদের দেশে প্রবেশ করেছে সেখানে খুব ভয়াবহ ভাবে দেখা দিয়েছে। বাসে মেডিকেল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যা করা কি শুধুই কিছু ব্যক্তিবিশেষের দ্বারা সংঘটিত বিছিন্ন ঘটনা নাকি তার পেছনে পুরো ভারত জুড়ে চলা নারীকেন্দ্রিক অশ্লীল বিনোদনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব আছে তা নিয়ে এখন ভারতের সমাজ বিজ্ঞানীরা নতুন করে ভাবছে।


আমাদেরও নতুন করে ভাবতে হবে। ভাবতে হবে আমরা আমাদের দেশের নারীদের কিরুপে দেখতে চাই। আমাদের কন্যাদের কি আমরা আবেদনময়ী, নির্বোধ ও পুরুষের ভোগের বস্তু হিসেবে দেখতে চাই নাকি তাদের মননশীল, সৃজনশীল ও মানবিক বোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের মেয়েদের আদর্শ কে হবে, প্রীতি লতা ও বেগম রোকেয়া নাকি ‘চিকনি চামেলী’ ও ‘শিলা কি জাওয়ানী’ খ্যাত ক্যাটরিনা তা আমাদেরই ভাবতে হবে। আর এই ভাবনাটা যত দ্রুত করা যায় ততই ভালো, তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে আর সানি লিওনদের আমদানি করতে হবে না। আমাদের কর্পোরেট বিনোদন জগত তখন দেশেই সানি লিওন তৈরী করে বিদেশে রপ্তানী করবে।



শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৩


বাংলাদেশের একটি বহুল প্রচলিত দৈনিকের গত ২৬/০৭/২০১৩

 প্রতিদিন না খেতে পাওয়া  হাজারো শিশুর একজন

তারিখের সংখ্যায় ১২ নং পাতার সম্পাদকীয়তে প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক ফারুক ওয়াসিফ এর "ব্রিটিশ রাজপুত্র বনাম আমাদের সম্রাট" লেখাটি আমার নজরে পড়ল। সম্প্রতি তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা সকলেই জানি যে ব্রিটিশ রাজ পরিবারের ৩য় উত্তরাধিকারি হয়ে নতুন শিশুর আগমন হয়েছে। এ নিয়ে আমাদের দেশের গণ মাধ্যম সহ সারা বিশ্বের মিডিয়াতে চলছে ব্যাপক মাতামাতি। উল্লিখিত সম্পাদকীয়তে লেখক চমৎকার ভাবে শুরু করেছেন এই বলে - "একটি শিশু জন্মাল, একটি শিশু মরে গেল। একজন রাজপুত্র, অন্যজন হতভাগ্য। একজন রাজবধূ, অন্যজন দরজির বউ। একজন রাজ রানী, অন্যজন ঘুটেকুরানী। একজনের ঠাটবাটের খরচ যোগায় রাষ্ট্র, অন্যজন অভাবের জ্বালায় আত্মঘাতী মায়ের হাতে মরে যায়। অঙ্কের হিসাবে এক থেকে এক বাদ গেলে শুন্য থাকার কথা। কিন্তু সব শিশু তো সমান না। বিশ্বে প্রতিদিন মরে যাওয়া ২৫ হাজার শিশুর ( ৫ বছরের কম বয়সী) চেয়েও দামী একটি শিশুর জন্ম। বিশ্বে প্রতিদিন মারা যায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার শিশু!
রাজশিশু আলেকজান্ডার লুইস
এই ঘটনা বিশ্ব কে নাড়া দেয় না। কিন্তু ব্রিটিশ রাজপুত্রের জন্ম সংবাদে বিশ্বব্যাপী মাতোয়ারা লেগে যায়"

ওদিকে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম আলিয়ারায় দারিদ্র্যের কষাঘাতে পিষ্ট মা রোমেনা অভাবের তারনায় তার দুই পুত্র সম্রাট ও তাজিন কে নিয়ে পানিতে ঝাপ দিয়েছেন। ২৩ জুলাই ইফতারী নিয়ে শাশুড়ীর সাথে রোমেনার কলহ হয়,পরদিন তিনি সন্তানদের নিয়ে পানিতে ঝাপ দেন। কই, আমাদের দেশের মিডিয়া তো এই খবর টা ব্রিটিশ রাজপুত্রের আগমনের খবরের মত ফলাও করে প্রচার করলো না?

পত্রিকার পাতা খুললেই আজকাল আমরা দেখি রকমারী ইফতারীর বাজার, নানা ইফতার মাহফিলের খবর। পাশাপাশি আমরা দেখি নানা রকমারি, সুস্বাদু , উপাদেয় ইফতারের বর্ণনা। দৈনিক ৬-৭ টা বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে আমরা দেখি দেশের এক স্বনামধন্য মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে কত রকম উপায়ে স্যুপ বানানো যায় তা বর্ণনা করতে। এর পাশাপাশি সব চ্যানেল গুলো তে বিভিন্ন তারকারা বিভিন্ন রকম ইফতারী তৈরীর প্রক্রিয়া দেখান। কিন্তু আমাদের দেশের প্রতিদিন না খেতে পেয়ে যে হাজারো শিশু মারা যায়, হাজারো মা নিজ হাতে স্বন্তান কে হত্যা করতে বাধ্য হয় তা তো কোথাও প্রচার হয় না। একদিকে মানুষ না খেয়ে মরে, অন্যদিকে আমাদের গণ মাধ্যম কোথায় কোন আহামরি ইফতার পাওয়া যায় তার খবর প্রচার করে, আর বিত্তশালীরা ছুটে যায় সেই সব ইফতার কিনতে। আমাদের গণ মাধ্যম করবে আমাদের গণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব, তা না করে এরা করছে মুষ্টিমেয় কিছু করপোরেট গোষ্ঠীর দালালি।

যেই ব্রিটিশ রাজপুত্রের জন্ম নিয়ে এত মাতামাতি সেই ব্রিটিশরাই আমাদের ২০০ বছর ধরে শাসন আর শোষণ করেছে। সেই শাসনামলেই আমরা দুই দুই বার দুরভিক্ষের স্বীকার হয়েছি। এখন তাদের নিয়ে মিডিয়ার মাতামাতি কি এটাই বলে না যে আমরা আজো ওই ব্রিটিশদের নিজেদের প্রভু মানি আর তাদের চাটুকারী করি? সেই ব্রিটিশদের ভবিষ্যত শাসককে কি আমরা এখনো আমাদের ভবিষ্যত শাসক বলে মনে করি!?

ঠিক একই ভাবে বিশ্ব মিডিয়াও সমগ্র বিশ্ব জুড়ে প্রতিনিয়ত মারা জাওয়া লাখ লাখ মানুষের খবর না রেখে ব্রিটিশ রাজপুত্রের জন্মগ্রহণের সংবাদ নিয়ে মাতোয়ারা। ঠিক যেমন টা ছিল উল্লিখিত রাজপুত্রের পিতার বিয়ের সময়।

একদিকে পত্রিকায় সম্পাদকীয়তে লেখক ফারুক ওয়াসিফের এমন জীবন ঘনিষ্ঠ লেখা, অন্যদিকে সেই "রাজশিশুর নাম কেন আলেকজান্ডার লুইস?" ছেপে এরা কীসের পরিচয় দিচ্ছে? এই সম্পাদকীয় কি শুধু তাহলে ধারাবাহিক ভাবে রাজশিশুর খবর প্রচারের জন্য ক্ষমা চাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশ? নাকি নিজেদের মানসিক সন্তষ্টি? নাকি সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দেয়ার অপচেষ্টা মাত্র? আর আমরাই বা কেন এই দুমুখো মিডিয়ার প্রচারে নীরব থাকি?

বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট, ২০১৩

সংস্কৃতির দুটি কথা



ms¯‹…wZ kãwU AvR †_‡K A‡bK eQi Av‡MI Avgv‡`i Kv‡Q ARvbv wQj| ms¯‹…wZi Av‡M Avgv‡`i †`‡k †hUv †ekxi fvM cÖPwjZ wQj, †mwU n‡”Q K…wó ev KvjPvi| fvlvwe Wt mywbwZ Kzgvi PÆcva¨vq 1921 mv‡j d«v‡Ý †Kvb GKUv Abyôv‡b †hvM †`qvi Rb¨ †mLv‡b wM‡q wQ‡jb| †mB Abyôv‡b e³viv e³…Zv †`Iqvi mgq Òms¯‹…wZÓ K_vwU D‡jL KiwQ‡jb †mLvb †_‡K G‡m Wt mywbwZ Kzgvi PÆcva¨vq iex›`ªbv_ VvKzi Gi g‡a¨ ms¯‹…wZ wel‡q Avjvc Av‡jvPbv nq| Zv‡`i `yB R‡bi  K‡_vcK_‡bi djশ্রুতিতে AvR‡Ki GB ms¯‹…wZ k‡ãi আর্বিভাব।GLb Avi †KD K…wó kãwU e¨envi K‡i bv| GLb mevB ms¯‹…wZ kãwU e¨envi K‡i|
Zvn‡j Av‡mb, ms¯‹…wZ ej‡Z Avgiv wK eywS? eZ©gvb mg mvgwqK প্রক্ষাপটে ev eZ©gvb mgv‡R ms¯‹…wZ ej‡Z hvnv eySvq †mUv n‡jv `yÕPviUv Mvb, †mB mv‡_ Zejv I nvigwbqv‡gi mswgkÖYB AvR‡Ki ms¯‹…wZ, A_ev †Kvb K¬v‡e ev A‡civ nvD‡R e‡m bv, Mvb Ges Acms¯‹…wZi mv‡_ cvল্লা w`‡q GwM‡q Pjv| G‡Zv †Mj ms¯‹…wZi bv‡g GKai‡bi †fvM, wejvwmZv ev e¨w³K fvj _vKv, GKv †L‡q †e‡P _vKvi gbbkxjZvi PP©v Kiv| Avevi eZ©gvb mgv‡R wKQz gvbyl Av‡Qb hviv cÖMwZkxj avivq KvR Ki‡Z‡Q Zv‡`i wn‡m‡e ms¯‹„wZ ej‡Z ‡hUv eySvq †mUv n‡”Q mKv‡j Nyg †_‡K DVv †_‡K ïiæ K‡i iv‡Î Nygv‡bvi Av‡M ch©šÍ ‡h mg¯Í Kg©KvÛ msNwUZ nq †mwUB n‡”Q ms¯‹„wZ| LvIqv, Nygv‡bv, AvPvi, e¨envi, wek¦vm, Awel¦vm, ivM, weivM, nvwm-Kvbœv BZ¨vw` ms¯‹…wZi g‡a¨ AšÍf©y³| Avgvi ms¯‹„wZ Avi GKRb D”PweË gvby‡li ms¯‹…wZ wKš‘ GK bq|
Rxeb msMÖv‡gi avivevwnKZvq hw` gvby‡li ms¯‹…wZ‡K hw` cwieZ©b Kiv bv hvq, Zvn‡j mvgwMÖKfv‡e cwieZ©b Kiv m¤¢e bq


শুক্রবার, ৩১ মে, ২০১৩

পরিবর্তনঃ কেন চাই? কিভাবে চাই


চারপাশে শুধু একটাই কথা পরিবর্তন চাই পরিবর্তন । সবাই পরিবর্তন চায়। অলিতে, গলিতে,  পাড়া, মহল্লায়, চায়ের আড্ডায়, সোশ্যাল মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু হচ্ছে পরিবর্তন। কেউ কেউতো আবার পরিবর্তন নিয়ে “বদলে দাও, বদলে যাও” নামে কর্পোরেট প্রজেক্ট চালু করে ফেলেছে। সেদিন একজন বলছিলেন ‘ভাই দেশটার অবস্থা ভালো না পরিবর্তন দরকার’, ওনার পরিবর্তন দরকার কারন দেশের এই অস্থিতিশীল অবস্থায় ওনার গাড়ি বিক্রির ব্যবসাটা ভালো চলছে না। এখন কেউ গাড়ি কেনার ঝুকি নিতে চায় না। কখন কে গাড়িতে আগুন দিয়ে দেয় তাই। মিডিয়াতেও এখন পরিবর্তনের ঢেউ চলছে। ভারতীয় সিরিয়ালের সাথে টেক্কা দিতে একজন সিনিয়র অভিনেত্রী ফর্মুলা নিয়ে এলেন, এখন থেকে ওদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হলে আমাদের ওদের মতোই মসলাদার সিরিয়াল বানাতে হবে। তো শুরু হয়ে গেলো নাট্য জগতে পরিবর্তন। নাটকের বদলি এখন হয় প্রিতিদিনের সাবান (ডেইলি সোপ)। সিনেমা জগতে একজন পরিবর্তন নিয়ে এলেন, তিনি বললেন আমার সিনেমা নতুন কারন আমার সিনেমাতে আছে স্পেশাল ইফেক্ট, আমি অভিনয় করি টম ক্রুজের মত। আবার কেউ কেউ পড়ে আছেন পাহাড় নিয়ে, যেনো সবাই মিলে পাহাড় চূড়ায় উঠলে আমাদের শ্রমজীবী মানুষ মফিজ মিয়া আর আবুল মিয়াদের ছেলেমেয়েদের খাওয়া পড়া আর শিক্ষা দীক্ষার কোনো চিন্তা থাকবে না। আর বদলে যাও গ্রুপের তো পরিবর্তন সম্পর্কে ধারনা হচ্ছে পরিবর্তন মানে রাস্তায় যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা যাবে না; কফ, থুথু ফেলা যাবে না; বাসে মহিলা সিটে বসা যাবে না, তাহলেই নাকি আমাদের সমাজটা বদলে যাবে। এই হচ্ছে পরিবর্তন সম্পর্কে আমাদের ধারনা। তবে পরিবর্তন যে দরকার তা পরিবর্তন সম্পর্কে এই ধরনের মানসিকতা দেখেই বুঝা যায়।




তাহলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে পরিবর্তন বলতে আমরা কি বুঝি? পরিবর্তনটাই বা কেনো চাই আর কিভাবে চাই? পরিবর্তন ইতিবাচক বা নেতিবাচক দুই ধরনেরই হতে পারে। তবে পরিবর্তন বলতে সাধারনত ইতিবাচক পরিবর্তনকেই বুঝানো হয়। এখন সমাজে যদি পরিবর্তন আনতে হয় তাহলে সেটা হতে হবে এমন পরিবর্তন যা আমাদের সমাজটাকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে চলা শোষনকে দূর করবে, জনগনের সাধারন চেতনাগত মানকে উন্নত করবে।
সহজ ভাষায় পরিবর্তন হতে হবে প্রগতির পথে।




এখন পরিবর্তন যে করবো, কিসের পরিবর্তন করবো? আর কিভাবেই বা সেটা পরিবর্তন করবো? কি পরিবর্তন করবো তা জানার জন্য প্রথমেই আমাদের বুঝতে হবে আমাদের সংকটটা কোথায়? বলিউডের অভিষেক ও ঐশ্বরিয়া বচ্চনের ছেলে হবে না মেয়ে হবে সেটা আমাদের সংকট, না কেনো স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও এখোনো আমাদের দেশের মানুষ না খেয়ে থাকে সেটা আমাদের সংকট, সেই পার্থক্যটা আমাদের আগে বুঝতে হবে। জাতি হিসেবে আমাদের চেতনাগত মানের ক্রমাগত নিম্নমুখিতার কারনে আজ আমরা আমাদের সংকট গুলোকে চিহ্নিত করতে ভুল করছি। এখোনো আমাদের দেশের হাজারো মেয়েকে
ভাত, কাপড় যোগানোর জন্য নিজের শরীর বিক্রী করতে হয়, প্রতি রাতে শত শত পরিবার গৃহহীন হয়ে যাচ্ছে, ক্ষুদার জ্বালায় ছিন্নমূল শিশুরা চুরি করতে বাধ্য হচ্ছে। গার্মেন্টস কর্মীরা মারা যাচ্ছে পোকামাকড়ের মত। একদিনে হাজার খানেক লাশ যেনো এখন কোনো ঘটনাই না। দুইদিন মিডিয়াতে মাতামাতি, তারপর সব ঠান্ডা। তরুনরা মেতে আছে শাহরুখ খান বা সুনিধি চৌহানের কনসার্ট নিয়ে। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা একসময় আমাদের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বকারী ভূমিকা রেখেছিলো, তারা আজ মেতে আছে বিশ্বকাপের ব্যাটে সাইন করার উন্মাদনায় কিংবা ঠিকাদারির টেন্ডারবাজীতে। আজকের সমাজে খুব সহজেই সন্তান তার পিতার কাছে আবদার করে আব্বু বিসিএস পরিক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, কিনতে টাকা লাগবে। পিতা তার পুত্রের মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, বাবা চিন্তা করিস না টাকার ব্যবস্থা আমি করছি। এখন পিতা ও পুত্রের সম্পর্কটা এমনই। ঠিক যখন সাভারে একদিনে হাজার হাজার মানুষ ভবন চাপা পড়ে মারা গেলো আর আর হাজার দুয়েক মানুষ মৃত্যু যন্ত্রনায় আর্তনাদ করছিলো তখন আমাদের দেশের মিডিয়া কর্মিরা পুরস্কার বিতরনের নামে নর্দন কুর্দনে মহাব্যস্ত। কোন কোন পাহাড় জয়ী আবার লাশের মিছিলে গিয়ে ফটোশেষনে ব্যস্ত। এই হচ্ছে আমাদের সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র। 




পাশাপাশি আমাদের সমাজটা হচ্ছে শ্রেনীবিভক্ত। সঙ্খ্যা গুরুর উপর সঙ্খ্যা লঘুর শোষনের উপরই আমদের অর্থনীতি টিকে আছে। আমাদের দেশে খুব সহজে বলা হয় এখানে শ্রম সস্তা, অর্থ্যাৎ সোজা বাংলায় বললে শ্রমিককে তার প্রাপ্য মজুরি না দিলেও চলে। প্রতিমিনিটে, প্রতিঘন্টায় শ্রমিকের শ্রমচুরির টাকায় তৈরী হয় দক্ষিন এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিং কমপ্লেক্স। এভাবে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে তৈরী হয়েছে একটি শ্রমদাসত্ব মূলক ব্যবস্থা। একশ্রেনীর মানুষ লুটের টাকায় পার্টিসেন্টার, গলফ ক্লাবে চিত্তবিনোদনে ব্যস্ত আরেক শ্রেনীর মানুষ বংশপরিক্রমায় দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে ক্রমাগত মানবেতর থেকে অতিমানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে।




এখন সমাজ পরিবর্তন করতে হলে এই দাসত্বমূলক ব্যবস্থাটাকেই ভেঙ্গে ফেলতে হবে। মানুষে মানুষে শ্রেনী শোষন সমূলে উপরে ফেলতে হবে। মানুষের নৈতিক স্তরকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে হবে যাতে মানুষ গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলে “এই শোষন মানি না, মানবো না”। এমন সমাজ দেখতে চাই যেখানে গার্মেন্টস শ্রমিকের বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা শাহবাগ বা মতিঝিলে জড়ো হয়ে আন্দোলন করবে। চলচ্চিত্র তৈরী হবে “তাহাদের কথা” বা “গৃহযুদ্ধের” মত, যেখানে শোষনের বিরুদ্ধে মানুষের অদম্য লড়াইয়ের কথা বলা হবে। শাহরুখ খান, সুনিধি চৌহান বা আতিফ আসলামদের বদলে তরুনদের আদর্শ হবে চে’গুয়েভারা, মাস্টারদা সূর্যসেন বা ক্ষুদিরাম, প্রীতিলতারা। তবেই হবে পরিবর্তন।





এই ঘুনেধরা সমাজে ভাঙ্গন অবশ্যম্ভাবী, প্রয়োজন শুধু সঠিক সময়ে, সঠিক জায়গায়, সঠিক ভাবে আঘাত। লড়াইয়ের অদম্য স্পৃহা নিয়ে তরুন সমাজ এই সমাজটাকে ভেঙ্গে একটি সুন্দর মানবিক সমাজ তৈরী করবে এই হোক আমদের পরিবর্তনের মূল মন্ত্র।

বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৩

সামাজিক দায়িত্ব ও কম্বল বিতরন


আমাদের সমাজে সোস্যাল ওয়ার্ক নামে একটি কথা প্রচলিত আছে। যার মানে হচ্ছে সমাজের জন্য কিছু করা। এই সোস্যাল ওয়ার্কের আওতায় যেসব কাজ করা হয় তার মধ্যে হচ্ছে শীতকালে দরিদ্রদের মধ্যে কম্বল বিতরন করা, বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরন, সপ্তাহের বিশেষদিনে অসহায় মানুষদের মধ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে পাঠদান ইত্যাদি ইত্যাদি ...। আপাত দৃষ্টিতে এইসব কাজকে খুব মহৎ মনে হলেও এর মাঝে একধরনের আত্মতৃপ্তি ও আত্মপ্রবঞ্চনার ব্যাপার আছে। এর মধ্যে দিয়ে সমাজের সংকট গুলোকে মেনে নেয়ার একধরনের মানসিকতা প্রকাশ পায়।

ব্যাপারটি একটু ভালো করে লক্ষ্য করি। যখন গরিব মানুষদের মধ্যে কম্বল বা এইজাতীয় কোনো কিছু বিতরন করা হয় তখন আসলে কি চিন্তা কাজ করে? চিন্তাটি হচ্ছে যেহেতু সমাজের একশ্রেনীর মানুষ খুব দুঃখ কষ্টের মাঝে আছে তাই তাদের একটু সাহায্য করি, আমাদের সাহায্য ও সহযোগিতায় তাদের মুখে একটু হাসি ফুটুক। অনেকে ব্যাপারটা খোলাখুলি ভাবেই প্রকাশ করে “ওদের মুখে হাসি দেখাতেই আমার আনন্দ”। এই ধরনের সাহায্য সহযোগিতায় সবসময় দুটো পক্ষ থাকে। একজন দাতা আর একজন গ্রহীতা, দাতা সবসময় দান করে তার মহত্বের পরিচয় দিয়ে যাবেন আর গ্রহিতা সবসময় হাত পেতে দান গ্রহন করে আত্মগ্লানিতে ভুগবেন। এর ফলে দাতাদের মধ্যে একধরনের আত্মতৃপ্তি কাজ করে। আহা আমি কত মহৎ, আমি কত জনদরদি, আমি মানুষের জন্য ভাবি... ইত্যাদি। এইধরনের দান ও সাহায্য শেষ পর্যন্ত ঐ মানুষ গুলোর জীবনে কোনো পরিবর্তনই আনতে পারে না। উপরন্তু যেটা তাদের অধিকার সেটা দান হিসেবে পেয়ে তারা নিজেদের ধন্য মনে করে। সমাজে মানুষে মানুষে যে শ্রেনীবিভেদ , মানুষের প্রতি মানুষের যে শোষন সেটাকে দূর না করে এই ধরনের দান ও সাহায্য শেষ পর্যন্ত এই বৈষম্যমূলক সমাজের পক্ষেই কাজ করে।

এইধরনের কাজ যে শুধু নিরর্থক তাই না, এর একটা নেতিবাচক প্রভাবও তরুন সমাজের মধ্যে পরে। যে তরুনদের কাজ হচ্ছে নিজের মেধা, শিক্ষা ও পরিশ্রম দ্বারা সমাজের বৈষম্যগুলোকে দূর করে একটা সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সেই তরুনরা এই ধরনের নিরর্থক কাজ করে মনে করে সমাজের প্রতি তাদের দায়িত্ব শেষ। ফলশ্রুতিতে দেখা যায় সারারাত ধরে ত্রানের কম্বল বিতরন করে তরুনরা পরেরদিন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে “ অসাধারন একটা দিন কাটালাম” , “আজ বুঝতে পারলাম এই মানুষগুলো নিয়তির কাছে কি অসহায়”... । এই ধরনের বিভিন্ন নাকি কান্না মূলক কথাবার্তা বলতে থাকে। সমাজের প্রতি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিস্কার না থাকার কারনে সারারাত ধরে কম্বল বিতরন করা ছেলেটিই তার বাস্তব জীবনে বিভিন্ন শোষন মূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকে। উদাহরন স্বরূপ ধন্যাঢ্য পিতার ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া ছেলে বা মেয়েটি সারাদিন ফুল বিক্রি করে সেই টাকায় ছিন্নমূল শিশুদের একদিনের খাবার যোগালেও (এই বিশেষ দিনে ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র ছাত্রীরা বিশেষ ধরনের টি শার্ট পরে এবং পরদিন পত্রিকায় ওদের ফুল বিক্রির ছবি ছাপা হয়) সে বুঝতে পারে না তার বাবার ফ‍্যাক্টরিতেই হাজার হাজার শ্রমিকের শ্রম চুরি করা হচ্ছে প্রতিদিন, সেই শ্রমচুরির টাকাতেই সে মার্সিডিজ বেঞ্জ হাঁকায়। অনেকে আবার এই ব্যাপারটা বুঝতে পেরেও তার শ্রেনীগত অবস্থানের কারনে এইধরনের শোষনের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় না, কম্বল বিতরনের মাঝেই সে তার কর্তব্য সারে।


এতো গেলো উচ্চবিত্ত পরিবারের সৌখিন তরুনদের কথা, মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক তরুনও এই ধরনের ত্রান বিতরন জাতীয় কাজে নিজেদের নিয়োজিত করে। এরা ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন কর্পোরেট কোম্পানীর দ্বারা। এইসব কর্পোরেট গোষ্ঠীরা সমাজ সেবার নামে সমাজের মধ্যে নিজেদের গ্রহনযোগ্যতা বাড়িয়ে তোলে। গরীবের রক্তচুষে জমানো টাকায় গরীবকে সান্তনা সূচক ত্রান বিতরন করে, অনেকটা গরু মেরে জুতা দানের মত। এর একটা সুন্দর নামও আছে, ওদের ভাষায় সিএসআর অর্থাৎ কর্পোরেট সোস্যাল রেস্পন্সিবিলিটি। দেশের স্বার্থবিরোধী এই সব কোম্পানী ওদের অপকর্ম ও শোষনকে নির্ভীগ্নে চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে দেশের মানুষকে চোখে ধুলো দিতে এইসব কাজ করে থাকে। আর এইসব কর্মকান্ডকে সাধারন মানুষের কাছে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করে কর্পোরেট গোষ্ঠীর পোষা মিডিয়া। মানব সেবার পাশাপাশি এরা তরুনদের ভেতর একধরনের ভোগবাদী মানসিকতা তৈরী করে। সামাজিক দায়িত্ব ভুলে তরুনরা পরিনত হয় সৌখিন সমাজ কর্মীতে। ফলে এই ধরনের তরুনরা ত্রান বিতরনে যতটা আগ্রহী ঠিক ততোটাই অনাগ্রহী সমাজ পরিবর্তনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে।


এখন মনে প্রশ্ন আসতে পারে মানুষ যখন বিপদে পরে তখন কি আমরা হাতপা গুটিয়ে বসে থাকবো? না তা অবশ্যই নয়। মানুষ হিসেবে সব সময়ই আমাদের মানুষের পাশে দাড়াঁতে হবে। কিন্তু তা যেনো শুধু কম্বল বিতরনের মাঝে সীমাবদ্ধ না থাকে। আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে এই ধরনের সাহায্য সব সময়ই একটা অস্থায়ী টোটকা ব্যবস্থা। পুরো সমাজ জুড়ে চলা শোষন দূর করতে না পারলে এই ধরনের সংকট সব সময়ই থেকে যাবে। তাই তরুনদের বুঝতে হবে শুধু কম্বল বা বিনামূল্যে স্যালাইন বিতরন করলেই আমাদের দায়িত্ব শেষ না। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে এই সমাজের প্রতিটি স্তরে চলা অমানবিক শোষন ও অবিচার দূর করে সমধিকার ভিত্তিক একটি মানবিক সমাজ গঠন করা। সাথে সাথে এটাও মনে রাখতে হবে কর্পোরেট গোষ্ঠী যতই সোস্যাল রেস্পন্সিবিলিটির কথা বলুক না কেনো, ওদের মূল উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে মুনাফা করা। আর ওদের মুনাফার জন্য একমাত্র শর্ত হচ্ছে এই শোষন মূলক ব্যবস্থাটাকে জারি রাখা। তাই এই শ্রেনী কর্পোরেট শোষক ও তাদের তাবেদার মিডিয়ার মুখোশ খুলে দিতে না পারলে ও তাদের প্রতিহত করতে না পারলে এই শোষন কোনো দিনই দূর হবে না। উদাহরন স্বরূপ কিছুদিন আগে এশিয়া এনার্জির কর্মকর্তা গ্যারী লাই ফুলবাড়িয়াতে ত্রান বিতরন করতে গেলে সাধারন মানুষের প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে বাঁচে। কারন মানুষ বুঝতে পেরেছিলো ত্রানের আড়ালে ওদের উদ্দেশ্য হচ্ছে ফুলবাড়িয়ার কয়লা খনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন। এভাবে আমাদের সব সুবিধাবাদী গোষ্ঠিকে প্রতিহত করতে হবে। যাতে আর কেও  কম্বলের বিনিময়ে আমাদের মূল্যবান সম্পদ হাতিয়ে নিতে না পারে।

সবশেষে একটা কথাই বলতে চাই, সমাজ পরিবর্তন করে শোষনহীন সমাজ গড়তে হলে সবার প্রথমে নিজের শ্রেনী অবস্থান ত্যাগ করে , সকল প্রকার ভাবগত ও বস্তুগত সম্পদ চর্চা বাদ দিয়ে সমাজ পরিবর্তনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। তবেই সম্ভব হবে একটি সুন্দর, মানবিক ও আধুনিক সমাজ গড়া।



শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৩

আধুনিক সমাজের দাসব্যবস্থাঃ বুয়া ও গৃহকর্মী


“বুয়া শ্রেনী ও গৃহভৃত্য দের walk way তে হাটা নিষেধ”। এই লেখাটি ঢাকা শহরের একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত একটি পার্কের বাইরে সাইন বোর্ডে লেখা আছে। এই পার্কটি হচ্ছে সেই অভিজাত এলাকার অধিবাসী দের বিকেলে বা সকালে হাটাহাটির জায়গা। আর বুয়া শ্রেনী ও গৃহভৃত্যরা হচ্ছে তাদের বাসায় যে সব গৃহ কর্মী কাজ করে সেসব ব্যক্তি। কি প্রচন্ড শ্রেনী বিদ্বেষ প্রকাশিত হয়েছে এই লেখাটির মধ্যে। বুয়াদের হাত ধরেই অভিজাতদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এখানে খেলতে আসে, তারপরও বুয়ারা এখানে হাটতে পারবে না। এর পেছনে কি কোনো যুক্তি সঙ্গত কারন আছে? কারন আসলে একটাই সেটা হচ্ছে শ্রেনী বিভেদ। অভিজাত শ্রেনী বুয়া শ্রেনীদের তাদের সমঅধিকার ভুক্ত মানুষ মনে করে না। ক্ষেত্রবিশেষে ওদের মানুষই মনে করা হয় না। আমরা যতই একুশ শতকের অহংকার করিনা কেনো এখোনো এই সমাজ একটি শোষন মূলক সমাজই রয়ে গেছে। দাস প্রথা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে মনে হলেও তা আসলে বিলুপ্ত হয়নি। শুধু তার আবরনটা বদলেছে। সেটা এখন আরো অনেক বেশি পরিশিলিত আর সুশীল রুপ ধারন করেছে। দাস প্রথার বিভিন্ন রুপের মধ্যে একটা হচ্ছে এই গৃহভৃত্য বা বাসার কাজের বুয়া।

আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে কাজের বুয়াদের দাস বলাটা বোধহয় একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। কারন ওরাতো আর কৃতদাসদের মত বিক্রী হয়ে যায় নি বা ওদের তো আর চাইলেও দাসদের মত বাজারে তুলে বিক্রী করা যাবে না। সেটা ঠিক এখন আর আগের মত রাস্তার মোড়ে দাড় করিয়ে মানুষ বিক্রি করার দিন নেই। কিন্তু তাই বলে ধনিক শ্রেনী কর্তৃক অসহায় শ্রেনীকে দাস বানানোর প্রথা বন্ধ নেই। এখন আরো সুন্দর ও নান্দনিক ভাবে এইসব কাজ করা হয়। এখন আর ওদের কৃতদাস বলা হয় না ,বলা হয় house servant বা গৃহকর্মী। নামের পরিবর্তন হলেও ওদের জীবনের সাথে কৃতদাসের জীবনের কোনো পার্থক্য নেই। গৃহকর্মীরা সূর্যোদয় থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য হয়। সব মিলিয়ে কর্মঘন্টা হয় ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টা, ক্ষেত্রবিশেষে যেটা ২০ ঘন্টা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। তাদেরকে খেতে দেওয়া হয় ঘরের উচ্ছিষ্ট খাবার। তাদের জন্য নেই কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা, নেই কোনো বিনোদনের সুযোগ আর তার উপর আছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। গৃহকর্মীদের উপর যে নির্মম নির্যাতন করা হয় তা মধ্যযুগের অত্যাচারকেও হার মানায়। অত্যাচারের নতুন নতুন পদ্ধতির মধ্যে আছে ইলেক্ট্রিক শক, চোখে মুখে মরিচ ঘষে দেওয়া, গরম খন্তির ছেকা, আঙ্গুলে সূচ ফুটিয়ে দেওয়া, ঘুমাতে না দেওয়া ইত্যাদি। আর আছে নির্যাতনের আদিম ও বহুল প্রচলিত এক পদ্ধতি যৌন নির্যাতন। নির্যাতন যে শুধু বাসার কর্তী করেন তাই না। বাসার ছোট থেকে বড় সব সদস্যের বিনোদনের বিষয় হচ্ছে গৃহকর্মীকে নির্যাতন।

এই ধরনের নির্যাতনের কথা আমরা তখনই জানতে পারি যখন কিছু নির্যাতন কারী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। কিন্তু সে হার খুব কম। গৃহকর্মীকে নির্যাতনের জন্য বছরে মাত্র দুই থেকে তিনজন গ্রেফতার হয়, অন্তত আমরা মিডিয়াতে তাই দেখি। কিন্তু তাদের কারও পরবর্তীতে শাস্তি হয়েছে এমন কোনো দৃষ্টান্ত দেখা যায় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এইসব মামলা নির্যাতিতের পরিবারের সাথে মিটিয়ে ফেলা হয়, বা সহজ ভাষায় নির্যাতিতরা মিটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়।

কিন্তু একটা সমাজের এইধরনের নির্যাতন দিনের পর দিন চলতে পারে না। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এখনই দরকার। শ্রমদাসত্বমূলক এই প্রথা দূর করতে না পারলে শোষনহীন সুন্দর সমাজ কখোনোই গড়া সম্ভব হবে না। এই প্রথা দূর করার জন্য প্রথমেই যা করতে হবে তা হলো গৃহ শ্রমকে জাতীয় শ্রমনীতির আওতায় আনা। তবে শ্রমনীতির আওতায় আনা হলেও কিছু বিশেষ বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। কারন সাধারন শ্রমিকদের থেকে গৃহশ্রমিকদের ব্যাপারটা একটু আলাদা। সাধারন শ্রমিকদের মত গৃহশ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র আর বাসস্থান আলাদা নয়। গৃহশ্রমিকরা তাদের কর্মস্থল অর্থ্যাৎ মালিকের বাসস্থানেই থাকে ফলে তার সমগ্র জীবনের উপর মালিকের প্রভাব থাকে। সেজন্য গৃহশ্রমিকরা যাতে তাদের শ্রম সংক্রান্ত অধিকারের সাথে সাথে জীবনের অন্যান্য অধিকার গুলোও পেয়ে থাকে সে ব্যাপারে দৃষ্টি রাখতে হবে। গৃহ শ্রমিক আইনে যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে তা হলঃ

১। সাধারন শ্রমিক আইন অনুযায়ী প্রত্যেক গৃহশ্রমিকের কর্ম ঘন্টা হবে সর্বোচ্চ ৮ ঘন্টা। ৮ ঘন্টার অতিরিক্ত কাজ করালে ঘন্টা প্রতি দ্বিগুন হারে ওভার টাইম বেতন দিতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই ওভারটাইম করার জন্য বাধ্য করা যাবে না।

২। গৃহশ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো ঘোষনা করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী বেতন দিতে হবে। এবং সেই বেতন নগদ অর্থমূল্যে পরিশোধ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই জামা কাপড়, জুতা ইত্যাদি দ্বারা বেতন পরিশোধ করা যাবে না।

৩। গৃহ শ্রমিক যেহেতু মালিকের গৃহেই অবস্থান করে তাই তার খাবার এর ব্যাবস্থা মালিকের খাবারের সাথেই করতে হবে তা না হলে তাকে পৃথকভাবে রান্নাবান্নার সুযোগ দিতে হবে।

৪। প্রত্যেক গৃহশ্রমিককে বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। সাথে সাথে ঘুমানোর পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।

৫। গৃহশ্রমিকদের সপ্তাহে নূন্যতম একদিন সাপ্তাহিক ছুটি দিতে হবে এবং এর জন্য কোনো প্রকার বেতন কাটা যাবে না।

৬। শ্রম আইন আনুযায়ী অন্যান্য ছুটি সমূহ গৃহশ্রমিকদের প্রদান করতে হবে। তবে ছুটির দিন যদি গৃহশ্রমিকরা মালিকের বিশেষ প্রয়োজনে কাজ করতে ইচ্ছুক থাকে তাহলে দ্বিগুন হারে ঘন্টা প্রতি পারিশ্রমিক প্রদান করতে হবে।

৭।গৃহশ্রমিকদের যেকোন ধরনের চিকিৎসা ব্যয় মালিককে বহন করতে হবে।

৮। দূর্ঘটনাজনিত কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতির জন্য ( যেমন হাত থেকে পড়ে কাচের থালাবাসন ভেঙ্গে যাওয়া ) বেতন কাটা যাবে না।

৯। গৃহশ্রমিকদেরকে তাদের পরিবারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও ফোনে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।

১০। গৃহশ্রমিকরা একমাসের নোটিশে কাজ ছেড়ে দিতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই বাধ্যকরে কাজে বহাল রাখা যাবে না। সেই সাথে কাজ থেকে বাদ দিতে হলেও একমাস পূর্বে নোটিশ দিতে হবে।

১১। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার হচ্ছে কোনো অবস্থাতে এবং কোনো অজুহাতেই গৃহকর্মীদের শারীরিক এবং মানসিক ভাবে নির্যাতন করা যাবে না। এইধরনের যেকোন প্রকার নির্যাতন ফৌজদারী অপরাধ বলে গন্য হবে। এক্ষেত্রে গৃহকর্মীদেরকে রাষ্ট্র কর্তৃক আইনি সহায়তা দিতে হবে। নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীরা যাতে সহজে অভিযোগ জানাতে পারে তারজন্য একটি হট লাইনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সাথে সাথে প্রত্যেক গৃহকর্মীকে পরিচয় পত্র প্রদান করতে হবে যাতে বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র কর্তৃক তাদের খোজখবর রাখা যায়।

পরিশেষে এটাই বলতে চাই গৃহকর্মীরা আমাদের সমাজেরই মানুষ। এবং আমাদের সমাজের জন্য তারা খুবই গুরুত্বপূর্ন। গৃহকর্মীদের ছাড়া আজকের কর্পোরেট শ্রেনীর মানুষরা আসহায়। তাই আমাদের জাতীয় আয়ে পরোক্ষভাবে হলেও তাদের বিশাল অবদান আছে। সমাজের এইসব শ্রমজীবি মানুষকে নির্যাতন ও নিপীড়ন করে, তাদের অধিকার বঞ্চিত রেখে আমরা শুধু একটি অমানবিক ও নিষ্ঠুর সমাজই তৈরী করতে পারবো। তাই সুন্দর সমাজ গড়তে দেশের সব সচেতন মানুষকেই এই ধরনের শোষনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।